দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাগুরার বহুল আলোচিত স্কুলছাত্রী রাজিয়া খাতুন হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি হাসান শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার (২০ জুলাই) মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ আদালত এ রায় দেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ২০২২ সালের ১৭ মার্চ শ্রীপুর উপজেলার হাট শ্রীকোল গ্রামের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাজিয়া খাতুনকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ধারালো ব্লেড দিয়ে তার গলা কেটে মরদেহ পাশের একটি বাঁশঝাড়ে ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ঘটনার পর শ্রীপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে সিআইডি ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত ও তদন্তের ভিত্তিতে হাসান শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে রায় দ্রুত কার্যকর হবে বলে রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে।
রায় ঘোষণার পর রাজিয়ার মা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে আর ফিরে পাব না। এখন চাই, আইনি প্রক্রিয়া শেষে যেন রায় দ্রুত কার্যকর করা হয়।’
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবসে বাড়ির পাশের রসুনক্ষেতে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয় রাজিয়া খাতুন। পরদিন বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে কুমার নদের তীরবর্তী একটি বাঁশঝাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার তদন্তে র্যাব, পুলিশ ও সিআইডি যৌথভাবে কাজ শুরু করে। ঘটনার দুই দিন পর একই গ্রামের বাসিন্দা হাসান শেখকে আটক করে র্যাব-৬। পরে তদন্ত শেষে সিআইডি তাকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
রাজিয়া হত্যাকাণ্ডের পর মাগুরাজুড়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কর্মসূচি পালন করে। দীর্ঘ চার বছরের বিচার শেষে আদালতের এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাজিয়ার পরিবার। তবে তাদের প্রত্যাশা, আপিলসহ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর রায় কার্যকর করা হবে।
এমএম/